রোহিঙ্গাদের পক্ষে লড়াই, প্রস্তুতি নিচ্ছে আনসারুল্লাহ! |
মঙ্গলবার , ২৫ জুন ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » রোহিঙ্গাদের পক্ষে লড়াই, প্রস্তুতি নিচ্ছে আনসারুল্লাহ!




রোহিঙ্গাদের পক্ষে লড়াই, প্রস্তুতি নিচ্ছে আনসারুল্লাহ!



নিউজ সময় : 03/02/2017


নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পক্ষে লড়াই করার লক্ষ্যে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। এ লক্ষ্যে গোপন এই জঙ্গি সংগঠন অস্ত্র-বিস্ফোরক সংগ্রহ শুরু করেছে।


পুরান ঢাকার বংশালে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া আনসারুল্লাহর এক সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে ঢাকা মহানগর কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি সূত্র জানিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া তরুণের নাম যুবায়ের। তাঁর বাড়ি কামরাঙ্গীরচরে। যুবায়েরের কাছে থাকা ব্যাগে বিস্ফোরক ও অ্যাসিড পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে বলেছেন, বোমা তৈরির উপকরণগুলো তাঁদের আরেকটি দলের কাছে পৌঁছাতে যাচ্ছিলেন। ওই দলটি রোহিঙ্গাদের সহায়তার লক্ষ্যে টেকনাফে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।


গ্রেপ্তারের ঘটনা সম্পর্কে বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী রেজা বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে যুবায়ের ও তাঁর দুই সঙ্গী মোটরসাইকেলে করে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় টহলে থাকা পুলিশের দুজন সদস্য তাঁদের থামতে বলেন। চালক মোটরসাইকেল না থামিয়ে পুলিশের ওপর অ্যাসিড ছুড়ে মারেন। এতে কনস্টেবল আবদুস সালাম আহত হন। সঙ্গে থাকা এসআই নুরুজ্জামান মোটরসাইকেলটি ধাওয়া করে একজনকে ধরে ফেলেন। বাকি দুজন দৌড়ে পালিয়ে যান।


বংশাল থানার পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় ধস্তাধস্তিতে পড়ে গিয়ে এসআই নুরুজ্জামানের মাথা ফেটে যায়। এ সময় ওই জঙ্গির পায়ে গুলি করে আটক করা হয়, তাঁকে পুলিশের পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর তাঁর ছোড়া অ্যাসিডে দগ্ধ হওয়া পুলিশ সদস্য আবদুস সালাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন।


এ ঘটনায় বংশাল থানায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুটি মামলা হয়েছে। একটি পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে, অপরটি বিস্ফোরক আইনে।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ গ্রেপ্তারের পর যুবায়েরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে যুবায়ের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (বর্তমান নাম আনসার আল ইসলাম) সদস্য।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যুবায়ের বলেছেন, অ্যাসিড ও গানপাউডার সংগঠনের একটি আস্তানায় অন্য সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁর। সেখান থেকে বোমা তৈরির এসব উপাদান টেকনাফে নেওয়ার কথা ছিল। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, তাঁদের সহায়তায় আনসারুল্লাহ সংগঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁরা মিয়ানমারে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গিবাদে যুক্ত আছেন এমন কিছু ব্যক্তির কক্সবাজার ও টেকনাফ এলাকায় আনাগোনার আভাস তাঁরা পাচ্ছেন।


মা জাকিয়া বেগম গতকাল বলেন, তাঁর ছেলে কাদের সঙ্গে মিশতেন, সে ব্যাপারে তিনি জানেন না। তবে তাঁকে ছেলে এক বন্ধুপ্রতিম বড় ভাইয়ের কথা জানিয়েছিলন। ওই বড় ভাইয়ের নামও যুবায়ের। তিনি একজন ‘সরকারি লোক’, টেকনাফে থাকেন।


জাকিয়া বলেন, ‘গতকাল হাসপাতালে ছেলের কাছে গিয়ে আমি শুনলাম, সে ও তার বন্ধুরা টেকনাফে যাচ্ছিল। টেকনাফের যুবায়ের (সরকারি লোক) তাদের ডেকে পাঠিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যে কাজ করেছে, তার জন্য শাস্তি হওয়া দরকার।

কিন্তু এই সরকারি লোক যুবায়েরটা কেন এমন করল? এখন কী হবে?’
যুবায়েরের মা জাকিয়া বেগম বলেন, যুবায়ের প্রথমে পুরান ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসায় ও পরে চট্টগ্রামের হাটহাজারি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছেন। কিছুদিন আগে মাদ্রাসা থেকে পাস করে পাগড়ি নিয়ে আসেন যুবায়ের। এরপর আরও পড়ালেখা করছেন বলে পরিবারকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোথায় লেখাপড়া করছেন, সেটা খুলে বলেননি। শুধু জানিয়েছিলেন মুফতি হতে চান। উৎস….প্রথম আলাে

Loading...
loading...



Editor : Zakir Hossain,
Office : Jeddah,Kilo3,Old Makkah Road Behind Al Rajhi Bank
Email : [email protected]