‘সব খুলে বলতে’ পারছেন না মন্ত্রী |
শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮




‘সব খুলে বলতে’ পারছেন না মন্ত্রী



নিউজ সময় : 10/03/2017


ঢাকা:
পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর পেয়েও তা ঠেকাতে না পারার জন্য কিছু শিক্ষকের ‘অসততাকে’ দায়ী করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

তিনি বলেছেন, পরীক্ষার সকালে শিক্ষকদের হাতে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়ার পর তার ফেইসবুকে তা ফাঁস হচ্ছে।

“আমরা এমন একটি পরিবেশের মধ্যে আছি যা আমরা সব খুলে বলতেও পারি না, সহ্যও করতে পারি না। কিন্তু আমরা আর সহ্য করব না। সত্যিকার অর্থে আমাদের মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষক বেশি দরকার।”

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আয়োজনে এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

চলতি বছর এসএসসিতে বিভিন্ন পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে, যা পরদিন পরীক্ষায় হুবহু মিলে গেছে। এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তাতে কাজ হয়নি। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরও কোনো পরীক্ষা বাতিল বা স্থগিত করার নির্দেশ দেননি মন্ত্রী।

প্রশ্নপত্র ঠেকাতে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলে আসছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সরকার চাইলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব।

দুদকের মানববন্ধনে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “এবার প্রশ্ন ফাঁসের কিছু ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। যখন বিভিন্ন জেলায় প্রশ্নপত্র পাঠানো হল তখন তা ফাঁস হয়নি, শেষরাত বা ভোররাত থেকে প্রশ্ন ফেইসবুক থেকে আসছে। সত্যি কিনা মিথ্যা তা পরের দিনের প্রশ্নের সঙ্গে মেলালেই বুঝতে পারবেন।”

মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র শিক্ষকের হাতে পৌঁছে দিয়ে তারা যখন ‘চিন্তামুক্ত’ হচ্ছেন, তখনই পরীক্ষা শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে প্রশ্নপত্র ফেইসবুকে আসতে দেখা যাচ্ছে।

“আমরা দুই ঘণ্টা আগে প্রশ্ন দিতে বাধ্য, কারণ গ্রাম অঞ্চলে এই প্রশ্ন নিয়ে যেতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে প্রশ্ন রাখতে হয়, তার নিচে নয়। তাহলে কে প্রশ্ন বের করে দিচ্ছে?

পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন বিজি প্রেস ছাড়াও ছাপানো ‘সম্ভব’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি, বিজি প্রেসেই কিছু দুর্নীতিবাজ লোক গেঁড়ে বসে ছিল, এরপর দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাদের কারও চাকরি চলে গেছে, আবার কেউ জেলে আছে।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয় পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে- এমন দাবিও নুরুল ইসলাম নাহিদ করছেন না।

“দুর্নীতির ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স। আমার শিক্ষামন্ত্রণালয়ে হচ্ছে না তা বলছি না, সারাদেশজুড়ে এই মন্ত্রণালয়ের কাজ বিস্তৃত। তবে এইটুকু বলতে পারি, মন্ত্রণালয়ের যে পরিধি আছে সেখানে সরাসরি দুর্নীতি হয় না। অস্বীকারও করি না, তবে আগের মতো অবস্থা নেই।”

দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে দুদকের সহযোগিতা আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘কাজে লেগেছে’ এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন করতে না পারলে দুর্নীতি প্রতিরোধ ‘অসম্ভব’।
উৎস..বিডি নিউজ

Loading...
loading...



Editor : Zakir Hossain,
Office : Jeddah,Kilo3,Old Makkah Road Behind Al Rajhi Bank
Email : [email protected]