পোশাকেও বৈশাখী হাওয়া |
মঙ্গলবার , ২০ নভেম্বর ২০১৮




পোশাকেও বৈশাখী হাওয়া



নিউজ সময় : 04/04/2017


লাইফ স্টাইল ডেস্ক: ‘জীর্ণ যা কিছু যাহা কিছু ক্ষীণ/জীবনের মাঝে হোক তা বিলীন/ধুয়ে যাক যতো পুরানো মলিন/ নবআলোকেরও স্নানে’- রবি ঠাকুরের কবিতার মতোই বৈশাখের আহ্বানে নবপ্রাণের উচ্ছ্বাস বাংলার জনজীবনে। যার প্রভাব পরিলক্ষিত হয় পোশাকেও। কয়েকদিন পরেই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। বাঙালির প্রাচুর্যের প্রতীক বৈশাখকে বরণ করতে চারদিকে চলছে মহাপ্রস্তুতি। বৈশাখের উৎসব হয়ে উঠেছে বাঙালির ঐক্যের উৎসব।

বৈশাখের আহ্বানে নবপ্রাণের উচ্ছ্বাস বাংলা আর বাঙালীর জীবনে। যার প্রভাব প্রথমেই পরিলক্ষিত হয় পোশাকে। বৈশাখের এই নববারতাই বর্ণিল পোশাকের ছোঁয়া চায় সবাই। বর্ণিল পোশাকের বাহারি পসরা সাজিয়েছে নগরীর ফ্যাশন হাউসগুলো।

পহেলা বৈশাখে যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তার বড় অনুষঙ্গ নতুন পোশাক। কেমনভাবে সাজাবেন নিজেকে বৈশাখের প্রথম দিনটিতে সবার এ নিয়ে আগাম প্রস্তুতির যেন শেষ নেই।

বৈশাখের প্রথম দিন সবাই নতুন কাপড় পরবে। কিন্তু কাপড়ের রংটা কী হবে? সাদা-লালের চিরায়ত ফ্যাশন তো রয়েছেই। পাশাপাশি চলছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। মূলত হালখাতার রংটা লাল ও সাদা। ধরে নেয়া হয়, ওই রং থেকেই এসেছে বৈশাখের লাল-সাদার ফ্যাশন। তবে এখন সেই ধারাবাহিকতায় লালের বিভিন্ন শেডও চলে এসেছে ফ্যাশনে। বৈশাখে বাঙালি মেয়েরা শাড়ি পরেন। এটা এখন অনেকটা অনিবার্য বিষয় হয়ে গেছে। অনেকেই এর জন্য পহেলা বৈশাখের অপেক্ষায় থাকেন। আর বৈশাখ এলেই গায়ে ওঠে পাটভাঙা তাঁতের শাড়ি। সেই শাড়িতে লাল-সাদার সীমাবদ্ধতায় থাকতে রাজি নয় এখন কেউই। লাল ও সাদা তো থাকবেই, সঙ্গে থাকতে হবে অন্যান্য রং। কিংবা অন্য কোনো রঙের শাড়িতে সেজে কপালের টিপ আর হাতের চুড়িটা সবাই লাল পরবেন। অথবা শাড়িতে চাই কোনো বাঙালি মোটিফ।

বৈশাখের প্রথম দিনে ঘরে বসে তো আর থাকা যায় না। ভোরের আলো ফুটতেই সাজসজ্জা শুরু হয় তরুণীদের মধ্যে। গরম, অনভ্যস্ততার কারণে শাড়িতে স্বস্তিবোধ করেন না অনেকেই। তারা অনায়াসে পরতে পারেন সালোয়ার-কামিজ বা কুর্তা-চুড়িদার। পোশাকের নকশা, কাটে ভিন্নতা আনা যেতেই পারে। আর সাজটাও তো হতে হবে মানানসই। লম্বা বেণি, টিপ আর চুড়িতে থাকবে বৈশাখী আমেজ।

বর্তমানে লম্বা কুর্তা, কামিজের সঙ্গে এই বৈশাখে চুড়িদার সালোয়ার বেশ চলছে। তরুণীদের পছন্দের তালিকায় বৈশাখের পোশাকের চিরায়ত রং লাল-সাদার পাশাপাশি সবুজ, নীল, কমলা ও ম্যাজেন্টার মতো উজ্জ্বল রং প্রাধান্য পেয়েছে। কামিজের কাট, নকশাতেও খানিকটা পরিবর্তন এসেছে। একটু ঘেরওয়ালা ফ্রক-কাট কামিজ, লম্বা কুর্তা বা কামিজের হেমে ভি-কাট, পাশাপাশি আনারকলি কামিজ, অ্যালাইন কামিজের চল রয়েছে। হাতায়, গলায় ও হেমে পাইপিং, লেইস ব্যবহার করতে পারেন। হাতকাটা, খাটো হাতা, ঘটিহাতা, এমনকি ফুলহাতা কামিজ পরা যেতে পারে।

সুতির পোশাকই গরমের জন্য আরামদায়ক হবে। তবে রাতে বের হলে অ্যান্ডি, সিল্ক কিংবা মসলিনের পোশাক পরতে পারেন। তবে যে পোশাকই পরুন না কেন, মাথায় রাখতে হবে, আপনি সেই পোশাকে কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্য। বৈশাখকে ঘিরে তরুণদের চাহিদার মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, বৈশাখী শার্ট, গামছাসহ কিছু নতুন ও ব্যতিক্রমী প্রসাধনী সামগ্রী।

ফতুয়ায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ঢোল, একতারার ডিজাইনগুলো এবার কিছুটা ব্যতিক্রম ও নজরকাড়া। আর সেদিকেই ঝুঁকছেন অধিকাংশ ফ্যাশন সচেতন পুরুষ। পাঞ্জাবির চাহিদা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময়টাতে থাকে একটু বেশি। বাঙালি বলে কথা, তাই পোশাকেও থাকতে হবে বাঙালির ঐতিহ্য। আর তাই হাতে হালকা লাল রঙের কাজ, গলা ও পিঠে সাদামাটা লালের ছটায় বর্ণিল পাঞ্জাবিগুলোর চাহিদা বেশি। সাজতে পছন্দ করে না এমন মেয়েদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। উৎসব এলে তো কথাই নেই। নতুন পোশাক থাকা চাই। তাতে থাকা চাই বিশেষ দিনের বিশেষ ডিজাইন।

শিশুদের জন্য এই নববর্ষে নগরীর ফ্যাশন হাউসগুলোয় রয়েছে বিশেষ আয়োজন। শিশুদের সালোয়ার-কামিজ, মেয়েদের ফ্রক, স্কার্ট-টপস ও ফতুয়ায় রয়েছে লাল, কমলা, হলুদসহ উজ্জ্বল নানা রঙে। এ পোশাকগুলোয় ব্যবহার করা হয়েছে অ্যামব্রয়ডারি, সিকোয়েন্স, হাতের কাজ। ছেলেদের জন্য রয়েছে বৈশাখী ফতুয়া-প্যান্ট, শার্ট-প্যান্ট, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবির কালেকশন। হাতের কাজ, অ্যামব্রয়ডারির কাজ, প্রিন্ট ও নানা মাধ্যমের ব্যবহারে তৈরি পোশাকগুলো উৎসবমুখী, আরামদায়ক এবং কাট ও ফিনিসে উন্নত। শিরোনাম বা ক্যাপশন হিসেবে ফোক আর্ট মোটিভ সিরিজ- পাখা, কলস, পাখি, ড্রাই ফিস, ঘণ্টা, হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, ঘুড়ি, হাঁস, মোরগ ও টমটম গাড়ি।

এ ছাড়া অ্যাকোয়া ফিস, চিলড্রেন পেইটিং, ফোক আর্ট, পেঁচা, ঘুড়ি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ফতুয়া, টি-শার্ট, শর্ট পাঞ্জাবি অলংকৃত করা হয়েছে। মাধ্যম হিসেবে স্ক্রিনপ্রিন্ট, অ্যামব্রয়ডারি শামুক, ঝিনুক ব্যবহার, হ্যান্ড অ্যাপলিক ও সুতার কাজ করা হয়েছে। ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার, ১২০০ টাকায় মিলবে শিশুদের পোশাকগুলো।

নববর্ষে পাঞ্জাবির ব্যাপক আয়োজন রয়েছে ফ্যাশন হাউসগুলোয়। কাট, ফিনিশিং একসেসরিজের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিয়ে পাঞ্জাবির ডিজাইন করা হয়েছে। সুতি এন্ডি ও সিল্কে হাতের কাজ ও অ্যামব্রয়ডারি কাজের পাঞ্জাবি থাকছে সাদা, মেরুন, কালোসহ নানা রঙে।

প্রধানত জ্যামিতিক নকশায় কাঁথা, সাটিন স্টিচে অলংকৃত এই পাঞ্জাবির কালেকশনে রয়েছে।

বৈশাখ এলে তো লাল-সাদার ছড়াছড়ি। তপ্ত রোদে সাদা রঙের পোশাক তাপ শোষণ করে। আর তাই সবার নজর থাকে সাদার দিকে। আর যেহেতু আপনি সারাদিন ঘুরে বেড়াবেন, তাই পায়ের জুতাটিও আরামদায়ক হতে হবে।

পহেলা বৈশাখ, হালখাতা, নতুন কাপড় … এসব এখন আর কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে নেই। এখন একই আনন্দ নিয়ে সবাই উদযাপন করে বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ। লাল-সাদাসহ উজ্জ্বল সব রঙের নতুন পোশাক কেমন হবে আর এর সঙ্গে সাজটাই বা কী হওয়া চাই, এ নিয়ে চলে পরিকল্পনা।

Loading...
loading...



Editor : Zakir Hossain,
Office : Jeddah,Kilo3,Old Makkah Road Behind Al Rajhi Bank
Email : [email protected]