দোষারোপ করে রাষ্ট্র চলবে না: প্রধানমন্ত্রী |
বুধবার , ১২ ডিসেম্বর ২০১৮




দোষারোপ করে রাষ্ট্র চলবে না: প্রধানমন্ত্রী



নিউজ সময় : 28/04/2017


ঢাকা: পারস্পরিক দোষারোপের পথে না হেঁটে সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগকে সমঝোতার মাধ্যমে আরও সচতেনতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার এই তিনটা স্তম্ভের মধ্যে একটা সমঝোতা নিয়েই চলতে হবে, কাজ করতে হবে। একটি আরেকটিকে দোষারোপ করে কোনোদিন একটা রাষ্ট্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে পারে না। এই বিষয়টায় সকলকে আমি একটু সচেতন থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।”

শুক্রবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুক্রবার জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, সংসদ আইন প্রণয়ন করে, তা প্রয়োগ করে বিচার বিভাগ। আর তা কার্যকর করার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের। ক্ষমতা কোনো বিভাগেরই কম নয়। কিন্তু কেউ এককভাবে চলতে পারে না। সবাই মিলে সমঝোতা রেখেই চলতে হয়।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দুই বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে তার কথায় রাষ্ট্রের নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপড়েনের প্রকাশ ঘটেছে।

সপ্তাহ দুই আগে প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতেই এক অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের এই দ্বন্দ্বকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।

উচ্চ আদালতের বিচারকদের বাসস্থানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এস কে সিনহা বলেছিলেন, একটি মহল সব সময় সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে দূরত্ব তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত। এরকম ভুল বোঝাবুঝির কারণে সাধারণ জনগণের কাছে ভুল বার্তা চলে যায়।
বিচার বিভাগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে পাশ কাটানো হয়েছে বলেও ওই অনুষ্ঠানে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি।

সেদিন সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “ক্ষমতা কারও কিন্তু কম নয়। এখন কে কাকে সম্মান করবে, কে কাকে করবে না, কে কার সিন্ধান্ত নাকচ করবে, কে কাকে মানবে, না মানবে; এই দ্বন্দ্বে যদি আমরা যাই, তাহলে একটি রাষ্ট্র সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে না।”

এরপর গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “মাননীয় প্রধান বিচারপতির প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল হয়ে বলব, কোনো দেশে বিচারকাজ ছাড়া মাননীয় প্রধান বিচারপতিরা এত উষ্মা, এত কথা পাবলিকলি বলেন না।”

আর শুক্রবারের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেউ যদি মনে করেন যে, না, ‘এখানে আমার ক্ষমতা, আমিই সবটুকু প্রয়োগ করে ফেলব’… কিন্তু সেই প্রয়োগটা করবে কে? তার জন্য তো কাউকে লাগবে।… কাজেই এ কথাটা কেউ যেন ভুলে না যায়, আমি সেটুকুই বলব।”

দেশের মানুষের অধিকার সুরক্ষিত করার পাশাপাশি বিচার বিভাগের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা অনুষ্ঠানে সবিস্তারে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরপরই জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ফৌজদারি কার্যবিধির সংস্কার এবং বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার প্রক্রিয়া শুরুর কথা তিনি মনে করিয়ে দেন।

সেই সঙ্গে অধঃস্তন আদালতের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো করা, উচ্চ আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, আবাসনের ব্যবস্থা করা, প্রতিটি জেলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নতুন ভবন নির্মাণ শুরুর কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যা যা করণীয়, আমরা করে যাচ্ছি।”

Loading...
loading...



Editor : Zakir Hossain,
Office : Jeddah,Kilo3,Old Makkah Road Behind Al Rajhi Bank
Email : [email protected]